আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিভাষা

বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় এমনকি মৌখিক পরীক্ষায়ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির "আন্তর্জাতিক রাজনীতি" থেকে অনেক পরিভাষা নিয়ে প্রশ্ন হয়ে থাকে। আমাদের অনেকের কাছেই পরিভাষাগুলো দূর্বোধ্য মনে হয়। কিন্তু আমরা যদি এখন থেকেই একটু একটু করে সেগুলো পড়ে রাখি তাহলে পরের জার্নিটা আমাদের জন্য অনেকটা সহজ হবে। আর তাই এ পর্বে আমরা আলোচনা করবো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যবহৃত কিছু "পরিভাষা" নিয়ে। 🟩 Foreign policy: কোনো রাষ্ট্রই বর্তমান বিশ্বে একা একা চলতে পারেনা। পরস্পর নির্ভরশীল হয়েই চলতে হয়।এইভাবে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। আর এই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরি করা এবং সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিটি রাষ্ট্র কিছু মৌলিক নীতি আদর্শ মেনে চলে। এটিকেই আমরা বলতে পারি Foreign policy বা পররাষ্ট্রনীতি। ❇️ জেনে রাখা ভালো, 👉বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: ‘‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়’’ এই মূলনীতিকে প্রধান করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গড়ে ওঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’। এই উক্তির মধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল তাৎপর্য নিহিত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল প্রতিপাদ্য এটাই। 🟩 Convention: দুই বা ততোধিক বিরোধপূর্ণ রাষ্ট্র কোনো সাধারণ স্বার্থে একমত হয়ে চুক্তি করাকে Convention বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে আমরা রামসার কনভেনশন এর কথা বলতে পারি যেটি জলাভূমি ও জীববৈচিত্রের গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭১ সালে করা হয়েছিলো। ❇️ জেনে রাখা ভালো, 👉রামসার কনভেনশন (Ramsar Convention): এটি হলো বিশ্বব্যাপী জৈবপরিবেশ রক্ষার একটি সম্মিলিত প্রয়াস। ১৯৭১ সালে ইরানের রামসারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ‘কনভেনশন অন ওয়েটল্যান্ডস’ নামক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। পরবর্তী সময়ে এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ১৭১টি দেশ স্বাক্ষর করে। ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে এই চুক্তি কার্যকর হয়। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবনকে রামসার সাইট (রামসার কনভেনশন কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জলাভূমি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আর ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি টাঙ্গুয়ার হাওরকে সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘রামসার সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত আছে ‘হাকালুকি হাওর’। 👉 প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর চুক্তিকারী দেশের প্রতিনিধিরা Conference of the Parties (COP) হিসেবে মিলিত হয়। গত ৬-২০ নভেম্বর, ২০২২ এ মিশরের শারম-আল-শেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৭তম জলবায়ু সম্মেলন, যার আনুষ্ঠানিক নাম কনফারেন্স অব পার্টিজ-২৭ বা কপ-২৭। 🟩 Modus vivendi: এটার মানে হলো অস্থায়ী চুক্তি।সাধারণত কোনো যুদ্ধ বা দ্বন্ধ চলা অবস্থায় সাময়িকভাবে তা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কোনো অস্থায়ী চুক্তি করাকে Modus vivendi বলা হয়। এটিকে আবার Cease Fire ও বলা হয়। 🟩 Peace of Treaty: এটি হলো স্থায়ী চুক্তি। অর্থাৎ কোনো যুদ্ধ বা দ্বন্ধ স্থায়ীভাবে নিরসনের উদ্দেশ্যে যে চুক্তি করা হয় তাকে শান্তি চুক্তি বা Peace of Treaty বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ আমরা প্যারিস শান্তি চুক্তির কথা বলতে পারি। যেটি ভিয়েতনাম যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ২৩ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে প্যারিস শহরে স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। 🟩 Memorendum of Understanding(MOU): এটি হলো খসড়া টাইপ চুক্তি যা মানতে চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্র বাধ্য নয়। এই চুক্তি না মানলে রাষ্ট্রের কোনো শাস্তিও হবেনা। আমরা কি জানি? ভারতের সাথে যে তিস্তা চুক্তি হয়েছিলো সেটি কিন্তু MOU চুক্তি ছিলো। যার কারণে ভারত তা মানতে বাধ্য নয়। 🟩 Envoy: বাংলা অর্থ দূত। দূত এমন ব্যক্তিকে বলা হয় যিনি কোনো সরকার বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলতে প্রেরিত হয়ে থাকেন। 🟩 Embassy: বাংলা অর্থ দূতাবাস। একজন রাষ্ট্রদূত যেখানে বাস করেন সে স্থানকে দূতাবাস বলা হয়।সাধারণত দূতাবাসের অবস্থান হয়ে থাকে রাষ্ট্রের রাজধানীতে এবং তা বৈদেশিক রাষ্ট্র কতৃক বরাদ্দকৃত। 🟩 Consulate General: দূতাবাসের কার্যক্রমকে সহজ করার জন্য দূতাবাসের অধীনে রাজধানীর বাহিরে অন্য কোনো শহরে কাজ করে থাকে। যেমন, সৌদি আরবের রাজধানী জেদ্দায় বাংলাদেশের দূতাবাস এবং রিয়াদে কনসুলেট জেনারেল। ⚠️⚠️⚠️ নিজেকে যাচাইয়ের জন্য নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর ঝটপট দিয়ে ফেলুন👇 ১। বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট কোনটি? ক. রাতারগুল খ. সুন্দরবন গ. টাঙ্গুয়ার হাওর ঘ. হাকালুকি হাওর ২। প্যারিস শান্তি চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়? ক. ১৯৭১ খ. ১৯৭২ গ. ১৯৭৩ ঘ. ১৯৭৮ ৩। কপ-২৭ সম্মেলন কোন দেশে হয়? ক. যুক্তরাজ্য খ. স্কটল্যান্ড গ. প্যারিস ঘ. মিশর ✅credit: Sumiya Bintha Mustafa, Student of P2A.

Sanuarul

𝗜'𝗺 𝗮𝗹𝘄𝗮𝘆𝘀 𝗵𝘂𝗻𝗴𝗿𝘆 𝗳𝗼𝗿 𝗸𝗻𝗼𝘄𝗹𝗲𝗱𝗴𝗲.

Post a Comment

Previous Post Next Post